সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
॥একটি ঝড়ের রাত॥-@SOUVIK
বাইরে তখন প্রবল ঝড়।মনে মনে তাকে আঁকড়ে ধরার তীব্র আকাঙ্খা অনুভব করলাম।বৃষ্টি তখন উন্মাদ অনেকটা আমার মতো।কার্ণিশে জল চুইয়ে পড়ছে কিছুটা নির্জনতা নিয়ে,অবশিষ্ট যেটুকু মেঘ লুকোনো ছিল ফকিরের দরবারে তা উজাড় করে দিল দুহাতের চেটো ভিজিয়ে।সহসাই ভারী বর্ষণে মনের সব দ্বিধা স্রোতের মতো টেনে নিয়ে গেল মুহূর্তে।কেন হঠাৎ এমন হলো যেন বৃষ্টি হারিয়ে দিল আমার রাতের জন্য বরাদ্দ কাজের নেশাকে।কচি মুঠো কঠোর করে আটকে রাখতে চাইলাম গোপন ইচ্ছেকে।কিন্তু কোথায় সেই দৃঢ় সংযত মন? হাতে সময় নেই বেশি,চাহিদার বয়স বাড়ছে দ্রুত।নিজেকে ধরে রাখার সামর্থ হারিয়ে ফেলছি একটু একটু করে।আমি দবদব করতে দেখেছি মনখারাপের মোমবাতি,খিড়কির পাল্লাদের অদ্ভুত ভাবে হাওয়ায় ধাক্কা খেতে দেখেছি,দেখেছি চৌকাঠের বাইরে গোটা দুনিয়া শরীর উথাল পাথাল হতে।এই সমস্ত সংকেত যেন তোমার প্রতি সাংঘাতিক আকর্ষণজনিত।আজ আর কবিতা লিখতে মন চাইছে না, একবিন্দু ইচ্ছে করছে না শব্দ ঘরানায় আটকে থাকতে।খাম খুলে চিঠির বুকে বুলোনো হাতে প্রশ্নদের আদর করে বন্দী করতে চায় উত্তর।আয়না এখন সলজ্জ মুখ ঢাকতে আগ্রহী নয় একদমই।বৃষ্টি বুঝি আজ ভীষণ ক্ষত্রিয়,ঠোঁটের কাছে যুদ্ধজয়ের হাসি,হটকারীতা নয় নিশ্চিত,তবে প্রেম মারাত্বক আগ্রাসী আজ।একটি ঝড়ের রাত,ভেজা শরীরের গন্ধ মেখে নিতে চায় শিরায় শিরায়।একটি ঝড়ের রাত আঁচল সরিয়ে কামড়ে ধরা অন্ধকার অবসর।একটি ঝড়ের রাত তোমার কাঁধের এলোচুলে তৃষ্ণার নিষাদ।একটি ঝড়ের রাত তোমার উষ্ণতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার অকারণ আবদার।একটি ঝড়ের রাত চার দেয়ালে বন্দী দুই সত্বার কাছে আসার গোপন গল্প।গল্পটা শেষ করতে পারলাম না কিছুতেই,না হয় বাকি রাতটা ব্যক্তিগতই থাক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

নাট্যকর্মীকে পুলিশের 'হুমকি', মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যে পৌনে সাতটা।  শুক্রবার অফিস ফেরত অনেক যাত্রীর মতো নাট্যকর্মী রণিত পাল শিয়ালদহ শাখার মেন লাইনে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে অপেক্ষা করছিলেন বাড়ি ফেরার জন্য। ঝড়ের জন্য অনেক ট্রেন সেদিন দেরিতে চলছিল। হঠাৎ তিনি দেখতে পান কয়েকজন যাত্রী একজন যুবককে পকেটমার সন্দেহে মারধর করছেন ।  আর তার ঠিক সামনেই    পুলিশ কিয়স্ক। তিনি প্রথমে পুলিশের দারস্থ হয়ে ওই ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু উল্টে তাঁকে বলা হয় যে, ‘’ আপনি গিয়ে করুন না।‘’ তবে নাট্যকর্মী রণিত পাল এবং আরও কয়েকজন যাত্রী অনেক অনুরোধ করলে অবশেষে সেই ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করে জিআরপি। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। রণিত পালের অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান একজন পুলিশকর্মী। তারপর শুরু হয় গালিগালাজ। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে মারধরও করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ছবি তুলে মিথ্যে মালালায় ফাঁসানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি শিয়ালদহ জিয়ারপিতে অভিযোগ জানাতে গেলে, আরও বিপদে পরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তিনি যদি লিখিত অভিযোগ জানান তাহলে নাকি তিনি সমস্যায় পরতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাকি মানহানির ...