সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

charminar পর্ব--4

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------#ঐশী

Abir Sen.
Jadavpur University.
Electrical Engineering.
Batch:2013-2017 

Rachita Ray.
Lady Brabourne College.
History Honours.
Batch:2013-2016

North Bengal -র ছেলে আবির পড়াশুনোর সূত্রে কলকাতায় flat নিয়ে থাকে।খুব সাধারণ,পড়াকু,শান্ত,নম্র,সরল,কথা বলতে ভালোবাসে আর খাদ্যরসিক।সাথে আঁকাআঁকি,অল্প লেখাজোখা,photo তোলা আর অন্ধ ফুটবল প্রেম।

রচিতা থাকে Garia -র কাছাকাছি।কিছু ক্ষেত্রে দুজনের মিল থাকলেও বেশিরভাগই অমিল।রচিতা জেদি,একগুঁয়ে,স্বাধীনচেতা আর বদমেজাজি।বাড়িতে থেকে পড়াশুনো করলেও সারাক্ষণ-ই বন্ধুবান্ধব,আড্ডা,পার্টি,মজা,হই-হুল্লোর নিয়ে মেতে থাকে।বাবা-মা এর একমাত্র সন্তান হওয়ার side effects আরকি।

ওদের যোগাযোগটা Facebook ঘটালেও প্রেমটা ঠিক কী করে ঘটলো বা কে ঘটালো তা উপরওয়ালাই জানেন।কিন্তু কথায় আছে “Opposite Attracts”...এক্ষেত্রে বোধহয় সেরকমই কিছু ঘটেছিল।

যাইহোক এই যুগল তাদের প্রেমপর্বে কলকাতার কোনো জায়গা বাকি রাখেনি ঘুরতে আর কোন বিষয় বাকি রাখেনি ঝগড়া করতে।
Barecelona to Real Madrid,

Salman to SRK,

সবই এদের ঝামেলার অন্তর্গত।

মাসের মধ্যে ২১ দিন ঝামেলা বলা ভালো break up আর ৯ দিন প্রেম ।যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঝামেলার সূত্রপাত রচিতা করেছে এবং বলাবাহুল্য আবির মানিয়ে চলতো।তবে হ্যাঁ দুজনের মধ্যে ভালোবাসা অগাধ।

রচিতা কখনো ভাবেনি তার জীবনে প্রেমটা এতো seriously কখনো আসবে।যে মেয়েটার আজ একে ভালোলাগে তো কাল আর একজনকে,তার জীবনে ভালোবাসা আসতে পারে সেটা ভাবনার বাইরে।তবু ওই যে উপরে একজন আছেন,তিনি সবটাই দেখছেন আর তিনিই তো পুরোটা সাজিয়ে রেখেছেন।

বিবেকানন্দ পার্কের ফুচকা হোক কিংবা    অনাদির কেবিনে মোগলাই-সবই এদের নখদর্পনে।Sudden Lunch অথবা Dinner dates-এ ও যেমন গেছে তেমন কোন কোন সন্ধে ঢাকুরিয়া লেক অথবা দক্ষিণাপণে বসে just চা আর cigarette অথবা শুধুই বাদামভাজা।

প্রেমের উঠতি পথে শীতকাল,নন্দন,ময়দান,ভিক্টোরিয়া,Red Road,Pricep Ghat,Endless Walks,সন্ধ্যে নামার মুখে হঠাৎ ঠোঁটেদের এক হওয়া-সবকিছুই অনুঘটকের মতোন কাজ করে।আবির-রচিতার ক্ষেত্রেও তেমনটাই।হঠাৎ  হঠাৎ plan,আড্ডা,বেরিয়ে পড়া-এসবে এদের জুড়ি মেলা  ভার।

দুজনের চূড়ান্ত অমিল থাকলেও এককথায় বলা যায় কলকাতা তাদের কাছাকাছি এনেছিল।এইসবকিছুই,এই ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলোই তাদেরকে এক করেছিল।সম্পর্কটা জোরালো করেছিল।

আবির আর রচিতার মধ্যে কোথাও বোধহয় প্রেমের চেয়েও বন্ধুত্বটা অনেক অনেক অনেকটা গভীর।বলা ভালো soulmates.দুজনেই প্রতিনিয়ত একে অপরকে তুলে ধরার প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।
রচিতা একদিকে যেমন আবিরকে বলে চলে ঠিক কোন জামাটায় তাকে মানাবে,কোন deo টা use করা উচিত বা কীভাবে look change করবে;অন্যদিকে আবির ঘন্টার পর ঘন্টা রচিতার পরীক্ষার আগে রচিতার মুখস্ত করা পড়া ফোনে শুনে চলে,রাত জাগতে থাকে রচিতার সাথে।সম্পূর্ণ আলাদা subject হওয়া সত্বেও আবির আর রচিতা একে অপরের বিষয়ের terms গুলোর সাথে used to হয়ে যায়।

তো এই দুবছরে(২০১৪-২০১৬) দুজনের জীবনের ঘটনার সংখ্যা অসংখ্য।তাই বলতে গেলে শেষ করা সম্ভব না আর সাথে বাকিটা ব্যক্তিগত ।

কিন্তু যাইহোক ওই যে “সময় বহিয়া যায়,নদীর স্রোতের প্রায়”।এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।সময় গেছে,ওরা বড়ো হয়েছে,কিন্তু পরিণত হয়নি।তাই ঝগড়া-ঝামেলা হলেই দুজনেই হাল ছেড়ে বসে থাকতো।আবার কিছুদিন পর বরফ গলে জল হতো।তবু ওই ভালোবাসা-সেটা একদম অটুট।কিন্তু কোথাও একটা যে সুর কাটা শুরু হয়ছিল অনেক গভীরে,তা ওদের জানা ছিলনা।

“২০১৬,নবমীর সকাল।”
সাধারণ কথা বলতে বলতেই কথা কাটাকাটি,তর্কাতর্কি।
আর তা থেকেই চরম ঝগড়া।
দুজনেরই পরিণত না হয়ে ওঠার ফলাফল হিসাবে তাদের এই রাগ,যেদ,অভিমান তিনমাস তাদেরকে দূরে করে রাখে।তবু ওই “ভালোবাসা”-আরও একবার প্রমাণ করলো তার স্বতন্ত্রতা।

ফলস্বরূপ,”১৮ ই ডিসেম্বর,২০১৬,রবিবার...”

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...