সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বৃষ্টি নেমেছে! শুনছো সবাই? বৃষ্টি নেমেছে।
আহা আজ বড় আনন্দ- আজ বৃষ্টি নেমেছে!
কিন্তু কি যেন একটা কাঁটা বিঁধছে আমায়!
আচ্ছা, সেই যে বৃষ্টির কালে তুমি জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিতে আমায়...
মনে আছে তোমার?
আর আমিও খুঁজে পেতাম এক নিরাপদ আশ্রয়।
কারণ আমি যে মেঘ ডাকলে ভয় পাই!
আজ অবশ্য ইচ্ছে হলেই জড়িয়ে তুমি ধরো ঠিকই,
তবে সেই আশ্রয়ের উপলব্ধিটা আর আসে না- 
তোমার দু'হাত খোঁজে অন্যকিছু।
আমিও সেই স্রোতে ভেসে যাই,
তবু মনে থেকে যায় একটা বোবা শূন্যতা।
মনে আছে, সেই যে কত কি আবোলতাবোল কথায় মশগুল হয়ে থাকতাম?
মাথা নেই, মুণ্ডু নেই এমন কত কথা বলেই সময় কাটাতাম...
আজ সেই সময়েরই তোমার বড় অভাব।
দিনের শেষে একটুখানি তোমাকে পাওয়াও যে এখন ভাগ্যের বিষয়!
কি জানি! এই স্বল্প সময়ের জন্যই হয়তো আমার উচ্ছ্বলতা তোমার মনে বিরক্তির উদ্রেক করে।
এই সবই কেমন যেন ন্যাকামি, ছেলেমানুষি মনে হয় তোমার।
দেখো দেখো! বৃষ্টির ছাঁটে ঘর ভিজবে ভেবে জানলাটা ভেজিয়ে দিয়েছিলাম।
হাওয়ার ঝাপটায় সেও গেল খুলে।
যেন হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢোকাই এই বৃষ্টির অধিকার....
'অধিকার'! অধিকার তো একদিন আমার হাতেও তুলে দিয়েছিলে তুমি- দাওনি!
আজও তো মুখে অন্তত তাইই বল।
কিন্তু সত্যিই কি সে অধিকার আমার আছে?!
কোন বিষয়ে মতানৈক্য ঘটলে আলোচনা তো আর তুমি কর না!
বরং অসন্তোষের চিহ্ন ফুটে ওঠে তোমার বক্তব্যে।
চুপ করে যাই আমি।
আফশোস হয় সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও হারিয়ে ফেলেছি আজ।
আচ্ছা কি হল বলতো!
বৃষ্টির জলে কি ধুয়ে গেলে সেই তুমি?
নাকি সময়ের সঙ্গে আমি হয়ে গেলাম পুরোনো, অচল, শুধুমাত্র একটা মূল্যহীন অভ্যেস?
তাই তোমার এত উদাসীনতা!
আচ্ছা বৃষ্টি, তুমি কি এর উত্তর জানো?!

সৃজনী

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...