সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজ আলোচনা করব একটু গম্ভীর অথচ খুব কমন সমস্যা নিয়ে  । বিষয় menopause। মেনোপজ হয়েছে বা হবে এমন মহিলাদের বেশ কিছু সাধারণ সমস্যা থাকে , পোস্ট মেনোপওজাল সিম্পটমসও পার করলেও সমস্যা পিছু ছাড়ে না , এসময় কিছু আরও অতিরিক্ত সমস্যা দেখা যায় । এটা অনেকেরই হয় , মেনোপজ না হলেও হয় , আজ তাই সময় নিয়ে গুছিয়ে পোস্টটা দিচ্ছি । 

ওহ্ হ্যাঁ ,  আজ আর একটা contemporary সমস্যার কথা বলব, হতে পারে সায়াটিকা , যার ডায়েট চার্ট আমি বানিয়ে দিয়েছি , ওবেসিটিতেও কাজ করবে । ওটাও এখানে জুড়ে দেবো ।

সাধারণ সমস্যা---

১) পেলভিক মাসল স্টীফনেস -

 এটা হয় অনেকের । পেট যেন নড়ছেই না , অচল স্থির হয়ে গেছে । গ্যাস হয়নি, তাও পেটটা শক্ত । আবার কোমরের নীচে হাড়গুলোও নড়েনা বিশেষ ।
মেনোপজের পর হলে তো এর কারন ইস্ট্রোজেনের অভাব । আর তাছাড়া আগেও হয় , ওবেসিটির জন্য । পেলভিক গার্ডলটায় আছে তিন ভাই , একে অন্যের হাত ধরেই তো গার্ডলটা তৈরী করেছে , ইলিয়াক-ইশ্চিয়াক-পিউবিস , এ তিনটে হাড় । এরা বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুর্বল হয় , মবিলিটি হারায় , এটাও কারন । আর ওবেসিটি হলে তো কথাই নেই, ও ব্যাটা সব দুর্ভোগের কারন । মায়োএপিথেলিয়াল অ্যডিপোজ, মাসলের আশপাশ জুড়ে জমে যায় , এটা কারন ।
উপশম কী? আপনার সায়াটিকা জাতীয় প্রবলেম না থাকলে আপনি লোয়ার লিম্ব ফ্রী হ্যান্ড করুন । শরীরচর্চাবিদ বিজ্ঞজনেরা আদর করে এক একটা নামে ডাকে তাদের । । যাক গে, আপনারা লোয়ার লিম্ব এক্সারসাইজ গাইড ইউটিউবে পেয়ে যাবেন । ওগুলো করুন । মদ্দাকথা হিঞ্জলিম্বসহ সবকিছুকে সচল সবল রাখতে হবে ।

৩) হাইপারথারমালহাইপারসেনসিটিভিটি টপিকাল রিয়্যাকশন, বা পলিমরফাস লাইট ইরাপশান--

 এটা হল ত্বক তাপের প্রভাবে বা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে মারাত্মক চুলকায় , এটা মেনোপজের পর তো হয়ই , আগেও তো হয় । ত্বক অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে সংবেদনশীল হয়ে নিজেই অ্যালার্জেন তৈরী করে নিজেই রিয়্যাক্ট করছে , ঐ বাংলায় যাকে বলে "নিজেই নাচে নিজেই গায়"....
 আপনি এরকম ঘামবিহীন বা কম ঘামযুক্ত চুলকানি হলে যা করবেন -- শিগগির গিয়ে ঠান্ডা জলধারায় দাঁড়িয়ে পড়বেন । ত্বকের তাপমাত্রা কমে গেলেই চুলকানি কমে যাবে ।
আর যদি ফটোঅ্যালার্জী হয়, মানে সূর্যের আলোর প্রভাবে অ্যালার্জী,এটা অনেকসময় পলুশ্যনের জন্য বাড়তে থাকা ইউভি সেনসিটিভিটির জন্যও হয় বা সূর্যের আলোর জন্য হাইপারফটোজেনিক রিয়্যাকশনের জন্যও হয়, কারন যাই হোক, ফল একই, এক্ষেত্রে যা করবেন , পরিষ্কার সাদা ফিনফিনে কাপড়ে বাড়ী থেকে বেরোনোর আগে কাপড়টা জলে ভিজিয়ে গায়ে স্পঞ্জ করুন , শুকোলে ঐ কাপড়েই SPF30যুক্ত সানস্ক্রীন নিয়ে ঐ কাপড়টা গায়ে মুছুন , আবার ঐ কাপড় দিয়েই গায়ের উন্মুক্ত অংশ ঢেকে রৌদ্রে বেরোবেন।
প্রসঙ্গত, আপনার সানস্ক্রীন যত নামী আর যতই দামী হোক না কেন, সোজা বের করে গায়ে লেপতে শুরু করবেন না, ওটা নিয়ম না , সানস্ক্রীন ডিরেক্টলী স্কীনে অ্যাপ্লাই করা হয় না । যা বললাম , সুতির কাপড়ে নিয়ে সে কাপড় গায়ে মুছবেন। আর সেটাই গায়ে জড়িয়ে বেরোবেন ।

আর সায়াটিকার ডায়েটচার্ট দিচ্ছি আমি, ওবেসিটিও কমবাইনড করে বানিয়েছি, যা নিম্নরূপ---

১)  সদ্য মেনোপজ হয়েছে এমন ক্ষেত্রে  পলিমরফিক লাইট অ্যালার্জী বা ফটোঅ্যালার্জী দেখা দেয় বেশী । এ অবস্থায় সায়াটিকার হিষ্ট্রিও থাকলে যা যা নেবেন না , তা হল স্ট্রিক্টলি--
*tetracyclineজাতীয় antibiotics নেবেন না ।
*ketoprofen জাতীয় analgesic নেবেন না ।
*সালফা বেসড ড্রাগ নেবেন না ।

যা করবেন- রোদে বেরোবার আগে সাদা কাপড়ে ভালো করে এক্সপোশনগুলো ঢাকবে । SPF30 এর সানস্ক্রীন লাগাবে ।

diet চার্ট -
১) ফাইবারসমৃদ্ধ ফল ও সবজী--বেদানা , আপেল , লেনটিল,ব্ল্যাকবীনস , ব্রাউন রাইস ।

২) ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- দুধ নয় কিন্তু দুধজাত সব । সী ফুড । মাছ,মাংস,আপেল,কলা ।

৩)ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার- ওয়ালনাট ও flaxseed ..

৪) রেটিনলযুক্ত খাবার-- গাজর,পালং,ফর্টিফায়েড মার্জারিন,আপেল ।

৫) অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার- সব রুটেসী ও সিট্রাস ফল, আনারস, রাঙালু, ব্রকলী, বাঁধাকপি ।

৬)B6 যুক্ত খাবার- সয়াপ্রোটিন,কলা,ওয়ালনাট ,টমেটো,পীনাট বাটার,পালং ।

৭)B9যুক্ত খাবার- মাশরুম,লিভার,অরেঞ্জ , অ্যাভোকাডো ।

৮) পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার- হোয়াইট বীন,কলা,অ্যাপ্রিকট , সব সবুজ সবজী ।

যা যা খাবেননা-
১)হোয়াইট ব্রেড , সাধারন ভাত, লো ফাইবার সিরিয়াল ।
২) অ্যাডেড সুগার আছে এমন খাবার- সব আর্টিফিশিয়াল মিষ্টি আছে এমন খাবার ।
৩) ট্রান্স ফ্যাট আছে এমন খাবার- হাইড্রোজেনেটেড ভেজি অয়েলে ভাজা খাবার ।

মন্তব্যসমূহ

  1. Khub bhalo information...India te menstruation topic ta ekhono social taboo..onek mohila menopause er por depression e thaken ..family er support khub dorkar.ar health professionals dat niyomito e bepare educational program kora uchit.

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...