সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

"হীরের জন্য সবাই পাগল। কাঁচ খুঁজবি তুই?"


- "জানো তো, সুখী মানুষদের মনগুলো বড্ড সুন্দর হয়! হীরের মত।
- "তাই বুঝি? আর যারা ভালো থাকে না? অসুখী? তাদের মনগুলো?"
- "কোনো অসুখী মানুষের হাসি দেখেছ? মিথ্যের আবডাল। একচিলতে plastered smile। ঝুটো ঠোঁটের curve। তাদের মনগুলোও চকচক করে, তবে কাঁচের মত।"
- "কাঁচের মত মন?"

- "হুঁ। নাহলে বারবার ভাঙবে কিকরে? ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে রোজ। একটু একটু করে। শৌখিন কাঁচের মত। ক্ষণভঙ্গুর মন। তবে ভাঙা টুকরোগুলো ধারালো।"
- "কাঁচ আজকাল fevi quik এ জোড়া লাগে।"
- "Fevi quik আছে।"
- "Open heart surgery?"

- "না। ভালোবাসা। দুটো অসুখী মানুষ পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলে, তাদের মনের ভাঙা টুকরোগুলো জুড়ে যায় একে অপরের শূন্যস্থান অধিকার করে। অনেকটা jigsaw puzzle এর প্রায় matching pieces এর মত।"

- "বুঝলাম। আর যদি কোনো সুখী মানুষ জড়িয়ে ধরে অসুখী মানুষটাকে?"
- "ওই যে বললাম। সুখী মানুষের মন হীরের মত! কমদামী কাঁচের ওপর দাগ কেটে যায় তারা। আরো ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। গুঁড়িয়ে দেয় আরও। আমরা যারা দিনেরাতে ঝুটো হাসির মুখোশ পরে ঘুরি, তাদের কপালে ওই হীরে সয়না গো। ভাগ্যবান ছাড়া নীলা কেউ ধরে রাখতে পারেনা। নীলাও কিন্তু হীরে। কাঁচের ক্ষমতা কি তাকে বহন করার? তারচেয়ে কাঁচের টুকরো দিয়ে মাঞ্জা দেব সুতোয়, জড়িয়ে রাখব দুটো আঙুল। সারাজীবন।"

- "হীরের জন্য সবাই পাগল। কাঁচ খুঁজবি তুই?"
- "কাঙালের কাছে চকচক করা রাংতাও সোনা হয় গো! ঝুটো কাঁচই তাদের হীরে।"
- "বেশ। খুঁজিস কাঁচ। নিজের মনের পরশপাথরে গড়ে নিস তোর মিথ্যে হীরে, লিখে নিস তোর গল্প। ততক্ষণ, জুড়ে যাক কাঁচের jigsaw puzzle টা! মাঞ্জা লাগুক! স্বপ্ন উড়ুক!"

-@সুচন্দ্রা

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...