সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এসব উপসর্গ খুব সাধারণ, আমরা স্বাভাবিক জীবনে গুরুত্ব দিইনা, এড়িয়ে যায়



আজ আমি এমন কিছু বিশেষ রোগের বিষয়ে বলব যা বাইরের কোনো pathogen বা virus bacteria এর জন্য ঘটে না, বরং মানবদেহ নিজের কারণেই রোগগুলি সৃষ্টি করে । নিজের দেহ নিজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করলে তাকে autoimmunity বলা হয়।  এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি । রোগগুলি হল -

1. Glomerulonephritis- এটি কিডনি সংক্রান্ত রোগ । 
উপসর্গ- কোমরে ব্যথা, প্রথমে কোমর ও পরে তা buttock এর। দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এক কথায় lower back pain।
কারণ- streptococcus bacteria এর বিরুদ্ধে দেহ antibody তৈরি করতে জানে । কোনো সময় কিডনির কোষ গুলোকেই দেহ strep bac ভাবতে শুরু করে ও কিডনি কোষগুলিকে ধ্বংস করতে থাকে।  তাই এই রোগ হয় ।

2. Grave disease- thyroid gland অতি সক্রিয় হয়ে যায়।
উপসর্গ- ওজন কমে যাওয়া , হৃদগতি ও রক্তচাপ বেড়ে যায় ।
কারণ- পিটুইটারি থেকে আগত thyroid stimulating hormone receptor কে thyroid gland কখনো antigen হিসেবে দেখতে শুরু করে ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে । 

3. Juvenile diabetes- জন্মকাল থেকেই রক্তে ইনসুলিন এর অভাব।
উপসর্গ- দুর্বলতা , অধিক তৃষ্ণা, অধিক খিদে ।
কারণ- অগ্ন্যাশয় এর বিটা কোষকে দেহ antigen ভাবতে শুরু করে ও ধ্বংস করতে থাকে, ফলে রক্তে insulin ঘাটতি হতে থাকে ।

4. Haemolytic anaemia- রক্তে haemoglobin এর অভাব ।
উপসর্গ- শ্বাসকষ্ট, অবসাদ, দুর্বলতা ।
কারণ- লোহিত রক্তকণিকা দেহে উৎপন্ন antibody এর প্রভাবে ধ্বংস হতে শুরু করে ।

5. Scleroderma- ত্বকের রোগ ।
উপসর্গ- ত্বক হঠাৎ মোটা, শক্ত, কালো ও রেখাযুক্ত হতে শুরু করে ।
কারণ- ত্বকের সংযোজক কলা ধ্বংস হতে থাকে ।

6. Systemic lupus erythamtosus- বিশেষ রোগ , একসাথে অনেক উপসর্গ দেখা যায় ।
উপসর্গ- প্রথমে 3-4 দিন ব্যাপী জ্বর, মুখে rash বের হয়, কিডনি নষ্ট হতে থাকে ।
কারণ- একসাথে DNA, স্নায়ুকোষ, রক্তকণিকা ধ্বংস হতে শুরু করে ।

এসব উপসর্গ খুব সাধারণ, আমরা স্বাভাবিক জীবনে গুরুত্ব দিইনা, এড়িয়ে যাই, তবে ছোট ছোট উপসর্গ হতে পারে বড় রোগের পরিচয়বাহক, তাই এ ধরনের কোনো উপসর্গ উপেক্ষা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া বাঞ্চনীয় ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...