সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কলকাতা বইমেলা এবং......


                                                       কলকাতা বইমেলা এবং... সুচন্দ্রা সিংহ
                                                                                ছবি- নিজস্ব

ছোটবেলার 'টিনটিন' থেকে কৈশোরের 'চাঁদের পাহাড়', যৌবনের উদ্দীপনায় 'হারিয়ে যাওয়ার টিকিট' থেকে বার্ধক্যের অবসরে  'দেশ - গল্পসংকলন'; এই সবকিছুর মাঝেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বই। আর সেই নানান স্বাদের বইয়ের মেনু নিয়ে এবারও হাজির আমাদের বইমেলা। আমাদের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা।

         বইপোকা বা বইপ্রেমীদের ঠিকানা এই বইমেলায় এবারও উপচে পড়ছে ভিড়। দুপুর না গড়াতেই সবাই হাজিরা দিচ্ছেন প্রিয় বইগুলো দেখে শুনে পছন্দ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পুরোনো বইয়ের গন্ধ, নতুন বইয়ের চমক, ছিমছাম অথচ সুন্দর প্রাঙ্গণ, সবটুকুই একটা অদ্ভুত ভালোলাগার আবেশে জড়িয়ে রাখে, খুব আদরে, ঠিক বুকমার্ক দেওয়া পৃষ্ঠার মত সযত্নে।



        ই-বুক, ই-লাইব্রেরি, গুগুল এর যুগে বইপ্রেমীদের সংখ্যা কমছে বৈকি! মুনাফা লুটছে ফুড কোর্টের নানারকম খাবারদাবার, অন্যান্য স্টল, ও কনটেস্ট। তবে সব কিছু ছাপিয়ে, কলকাতা রয়েছে কলকাতাতেই আর বইমেলা রয়েছে বইমেলাতেই। 'হীরু ডাকাত' হাতে নিয়ে ঝলমলে হাসিগুলো, লাজরাঙা মুখে দেখা 'দোয়েল সাঁকো', বা হঠাৎ চমকের 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' মনে করিয়ে দেয়, কলম এখনও চলছে। বই ছাপা হচ্ছে। বই বের হচ্ছে আর বইমেলাও থাকছে।



     শেষের শীতে ব্যাডমিন্টনের হুটোপুটি কমে আসে। কমে আসে সকালের কচুরি, দুপুরের পিকনিক আর বিকেলের চা সহযোগে আড্ডার সময়সীমা। তবু বাঙালি হুজুগ খোঁজে, ভালোবাসা খোঁজে, সময় কাটানোর ছুঁতো খোঁজে। তাই বেশী দোনামনা না করে, এই  'পাতাঝরার মরশুমে' পিকনিক আর ল্যাদের মধ্যে থেকে একটু সময় বের করে বইমেলা যাওয়া #হয়ে_যাক!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

নাট্যকর্মীকে পুলিশের 'হুমকি', মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যে পৌনে সাতটা।  শুক্রবার অফিস ফেরত অনেক যাত্রীর মতো নাট্যকর্মী রণিত পাল শিয়ালদহ শাখার মেন লাইনে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে অপেক্ষা করছিলেন বাড়ি ফেরার জন্য। ঝড়ের জন্য অনেক ট্রেন সেদিন দেরিতে চলছিল। হঠাৎ তিনি দেখতে পান কয়েকজন যাত্রী একজন যুবককে পকেটমার সন্দেহে মারধর করছেন ।  আর তার ঠিক সামনেই    পুলিশ কিয়স্ক। তিনি প্রথমে পুলিশের দারস্থ হয়ে ওই ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু উল্টে তাঁকে বলা হয় যে, ‘’ আপনি গিয়ে করুন না।‘’ তবে নাট্যকর্মী রণিত পাল এবং আরও কয়েকজন যাত্রী অনেক অনুরোধ করলে অবশেষে সেই ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করে জিআরপি। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। রণিত পালের অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান একজন পুলিশকর্মী। তারপর শুরু হয় গালিগালাজ। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে মারধরও করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ছবি তুলে মিথ্যে মালালায় ফাঁসানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি শিয়ালদহ জিয়ারপিতে অভিযোগ জানাতে গেলে, আরও বিপদে পরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তিনি যদি লিখিত অভিযোগ জানান তাহলে নাকি তিনি সমস্যায় পরতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাকি মানহানির ...