সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আকাশ ছোঁয়া টার্গেট নিয়ে ক্রিকেটের ভগবান শচীন তেন্ডুলকর নামলেন ক্রিজে।


॥ ফিনালে ॥ -সৌভিক মণ্ডল
তারিখটা ২৫শে জুন, ১৯৮৩, ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড। উইকেটে ব্যাট হাতে মাইকেল হোল্ডিং, অপরপ্রান্ত থেকে লাল বল হাতে দৌড়ে আসছেন মহিন্দর অমরনাথ। স্কোর বোর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫১.৫ ওভার : ১৪০-৯, ভারতের সিটে ১৮৩, অমরনাথের বল সোজা হিট করলো হোল্ডিং-এর প্যাড, আম্পায়ার ডিকি বার্ড আঙুল তুলে জানিয়ে দিলেন লেগ বিফোর উইকেট। আপিলটা যেন ভারত থেকে কয়েক হাজার বর্গমাইল দূরে ব্রিটিশ সীমান্তে ঠিকরে পড়েছিল। শেষ উইকেটটা পড়তেই ৮৩' র সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। উইকেট হাতে দৌড়চ্ছেন পাতিল, গাভাস্কার, শ্রীকান্ত, ইয়সপাল, মদনলালরা।

লয়েড, মার্শাল, গার্নার, গ্রিনিজদের ৭৫-৭৯ এর দম্ভ চুরমার করে প্রথম বিশ্বকাপ হাতে তুলে নিলেন অধিনায়ক কপিল দেব। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ক্রিকেটের সাফল্যের বীজ বপন হলো। তারপর "বিশ সাল বাদ" ; ২০০৩, ২৩শে মার্চ, সাউথ আফ্রিকার স্বর্ণশহর জোহানেসবার্গ, ওয়াণ্ডেরর্স স্টেডিয়াম এ তখন অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন রিকি পন্টিং আর ডেমিয়েন মার্টিন এর বিক্রম চলছে। ১৪০এ থামলেন পন্টিং, অস্ট্রেলিয়ার স্কোর গিয়ে ঠেকালো ৫০এ ৩৫৯। সারা ভারতবাসীর স্বপ্ন ছিল বাংলার ছেলেটার দিকে, "দাদা" সৌরভ গাঙ্গুলী। সর্বকালের সেরা অধিনায়ক তার শ্রেষ্ঠ দলটিকে নিয়ে গোটা টুর্নামেন্ট এ যে লড়াই করেছিল তারপর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আশা করেছিল সকলেই। কিন্তু ক্যাঙ্গারুর শক্তি তখন অনেক বেশী - হেডেণ, গিলক্রিস্ট, লী, ম্যাকগ্রা, সাইমণ্ড্স।

আকাশ ছোঁয়া টার্গেট নিয়ে ক্রিকেটের ভগবান শচীন তেন্ডুলকর নামলেন ক্রিজে। বিশ্বের তীক্ষ্ণতম ফাস্ট বোলার ম্যাকগ্রার বলে প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়ন ফিরে যাওয়ার পর আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। বীরেন্দ্র সহবাগ ও রাহুল দ্রাবিড় অনেক লড়াই করেও ম্যাচ বাঁচাতে পারল না, ২৩৪এ শেষ হলো ভারত। কিন্তু বাঙালী ক্যাপ্টেনের এভারেস্ট ডিঙানোর ইতিহাস আমরা আজও ভুলিনি আর ভুলবো না কোনোদিনও। তথাপি একরাশ মন খারাপ নিয়ে ঘরে ফিরলো সবাই। দুঃস্বপ্নের প্রহর গুনছিলাম আমরা সবাই। এমনি করে কেটে যায় আরো অনেক বছর, জল গড়ায় অনেক দূর। গড়ে আর ভাঙে।

তারপর....হুম তারপর সব প্রতীক্ষার অবসান, ২রা, এপ্রিল, ২০১১। ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফিনালে... ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা। মুম্বাই, স্টেডিয়াম ওয়াংখেড়ে। নীলাভ চিৎকার, উন্মাদনার পারদের চাপ কাটিয়ে মাহেলার ৮৮বলে দুরন্ত ১০৩ লঙ্কার স্কোরসিটে রান তুলে দেয় ২৭৪। জবাবে প্রথম ১০এ সহবাগ শচীন জুটিকে গ্রাস করে মালিঙ্গা। কোহলি আউট হতেই ব্যাটিং অর্ডার চেঞ্জ করে মাঠে নামেন ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিং ধোনি। ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিনতে সামলাতে থাকেন বিশ্বের সেরা স্পিনার মুরলীকে, অন্যদিকে লড়াই গম্ভীরের। ৯৭এ বোল্ড হয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া, মাঠ ছাড়লেন, ব্যাট হাতে এলেন যুবরাজ। তখনও লড়ছেন মাহি। ৪২০০০দর্শকের সাথে গোটা পৃথিবীর বুক ঢিপঢিপ। ড্রেসিংরুমে বারবার জল খাচ্ছেন কর্স্টেন, জাহির, হরভজন, রায়না। ওভার ৪৮.১, স্কোর ২৭১, বল হাতে দৌড় শুরু করলেন নুয়ান কুলসেকারা। ফ্রন্টে ধোনি। ব্যাটে বলে সংযোগ।

স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ কয়েক সেকেন্ড। হ্যা... "ছয়"!!! স্কোর শ্রীলঙ্কাকে টপকে ২৭৭। কমেন্ট্রি বক্স থেকে শাস্ত্রী চিৎকার করে বলে উঠলেন " Dhoni finishes off it's style, magnificent strike into the crowd, India lift the World cup after 28 years, the party starts into the dressing room, and it's an indian captain who has been absolutely magnificent in the night of the final" MS Dhoni 91 from 79 deliveries. বিশ্বকাপ ঘরে ফিরল। আমরা আবেগে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসালাম। বিশ্বকাপ ২০১৯, আমাদের সবার চোখ আবার ভারতীয় দলের দিকে। ইংল্যান্ডে প্রতিনিধিত্ব বিরাট কোহলির। রোহিত, রাহুল, বুমরাহ, সামি, জাদেজা, চহল কিমবা আরো একবার মাহি কী পারবে আমাদের দেশকে গর্বের শিখরে তুলতে। শুভেছা। "দিল সে টিম ইন্ডিয়া"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...