সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

'‘কেরিয়ারের শুরুতে আমাকে কমপ্রমাইস করতে হয়েছে’'


জেদ মানুষকে অনেক দূর অবধি নিয়ে যেতে পারে। কিছু করার ইচ্ছে , একজন মানুষকে তাঁর সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিতে পারে। সমস্ত বাঁধা-বিপত্তি কাটিয়ে তাঁকে স্পট লাইটের তলায় এনে দিতে পারে। মডেল- অভিনেত্রী রিয়া লাহা কিন্তু তেমনই একজন। আটপৌরেকে তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো প্রসঙ্গে জানালেন যে, ‘’ আমি ছোট থেকেই বাড়ির সাপোর্ট কোনওদিনও পাইনি। আমার মা-বাবার মধ্যে কোনওদিনই মিল ছিল না। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হতো রোজ। আর সেই সবকিছুর এফেক্ট এসে পড়ত আমার ঘাড়ে। আমাকে তাঁরা অনেক ছোট বয়সেই হোস্টেলে পাঠিয়ে দিয়েছিল।‘’ একটু থেমে তিনি আরও জানালেন, ‘’ একসময় দম বন্ধ হয়ে আসত। মনে হত এইসব কিছু ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছুই ভাল লাগত না। তারপর একদিন হঠাৎ ফেসবুক থেকে একজনের আলাপ হয়। তাঁর মারফত আমার এই ইন্ড্রাস্টিতে আসা।‘’



মডেল- অভিনেত্রী রিয়া লাহা বেশ কিছু স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও আকাশ আট-এর পুলিশ ফাইল, এক মাসের সাহিত্যতে তাঁকে দেখা গিয়েছে। কাজ করেছেন কালারস বাংলায় ।  এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যান্ডের ফটোশুটে তাঁকে দেখা গিয়েছে। কলকাতার যদি ‘ বোল্ড মডেল’ এর তালিকা করা যায়, তাহলে কিন্তু রিয়া লাহার নাম সেই সারির প্রথমদিকেই থাকবে। তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, ইন্টারন্যাশানাল মডেল হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা। বিদেশী ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করা। তবে রিয়া লাহা থেকে মডেল-অভিনেত্রী রিয়া লাহা হয়ে ওঠার পথটা অতটা মসৃণ ছিল না।



তিনি জানালেন, ‘’ যখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসি, তখন একজন বন্ধুর সঙ্গে মেসে থাকি। তখন আমি ইন্ড্রাস্টিতে একদম নতুন। কাজ খুঁজছি। সেই সময় যখন ঠিক সময়ে মেসের ভাড়া দিতে পারতাম না, তখন মেসের মালিক আমার গায়ে হাত দিত। আমার সঙ্গে অসভ্যতা করত। তারপর একদিন আমি মেস ছেড়ে চলে আসি। ‘’ একটু থেমে তিনি আরও জানালেন, ‘’ প্রথম প্রথম বেশ কিছু কাজের অফার আসে। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ কিন্তু প্রত্যেকেই আমাকে বলে, তোমাকে কাজ দিলে আমরা কী পাব ?’’



রিয়া বললেন, ‘’ কেরিয়ারের শুরুতে আমাকে কমপ্রমাইজ করতে হয়েছে, কারণ আমার তখন কাজের দরকার ছিল।‘’ কথাগুলো বলতে বলতে রিয়ার গলাটা শুকিয়ে এল, তবুও তিনি বললেন, ‘’ কিন্তু আমি এই ইন্ড্রাস্টিকে বড্ড শ্রদ্ধা করি।‘’

জিজ্ঞাসা করলাম, ‘’ ইন্ড্রাস্টিতে না এলে কী করতেন ?’’ তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ‘’ টিচার হতাম!’’ আর প্রেম নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে তিনি হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, ‘’ এখনও শুধু কাজের প্রতি ফোকাস করতে চাই!’’

( সাক্ষাৎকার- আদিত্য ঘোষ
ছবি- সংগৃহীত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

'ভাল কাজ করার তাগিদেই এগিয়ে যাওয়া, তাই ক্লান্তি লাগে না'

  একের পর এক স্ট্রেট ড্রাইভ। বিগত কয়েক বছর ধরে শুধু কাজ আর কাজ। এর বাইরে তিনি কিছু ভাবেননি এবং আজও ভাবতে চাইছেন না। কাজের প্রতি তাঁর কোনও ক্লান্তি নেই। একসঙ্গে দুই তিনটে ছবির কাজও করতে হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। শুধুমাত্র প্রোমোশনে যাওয়া নিয়ে তাঁর একটু আলস্য। আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, ‘ কাজের জন্য আমি দিনরাতের ক্লান্তিকেও দূরে ঠেলে দিতে পারি তবে প্রমোশনে যেতে আমার একটু আলস্য লাগে কিন্তু যেতে তো হয়, ওটাও আমার কাজের মধ্যে পড়ে।‘’ হিসেব কষলে দেখা যাবে গত ছয়মাসে অন্তত তাঁর পাঁচটি কাজ ওয়েব এবং বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এবং আরও আট থেকে দশটি কাজ মুক্তির অপেক্ষায়। প্রসঙ্গত তিনি বেশ কয়েকবার ভেবে জানালেন যে তাঁর কোন কোন কাজ এই বছর আসতে চলেছে। যে অভিনেতা ভেবে বলেছেন যে তাঁর কাজের সংখ্যা কত, সেই অভিনেতা কি ‘সুপারস্টার’ বলার যোগ্য? তবে অনির্বাণ চক্রবর্তী ওইসব তমকায় গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। তিনি অভিনয়ের জন্য আজও পরিশ্রম করে যেতে চান এবং আগামী দিনেও ভাল কাজের জন্য পরিশ্রমকেই গুরুত্ব দিতে চান।  গত বছরের শেষের দিকে শাস্ত্রী, খাদান, চালচিত্র এবং অপরিচিত ইতিমধ্যেই বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে। ওয়েব...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

আটপৌরের মুখোমুখি অভিনেত্রী কোয়েল সঞ্চারী

“ আমি ভেবেছিলাম যে অভিনেত্রী হব, হতেই হবে! অন্য কিছু করব না।‘’ কথাটার মধ্যে যেমন একটা জোড় আছে, যেমন একটা আত্মবিশ্বাস আছে ঠিক তেমনি একটা ভালবাসাও লুকিয়ে আছে। অভিনয়ের প্রতি চূড়ান্ত একটা টান আছে, হয়ত এটাই সফল হওয়ার মন্ত্র। অভিনেত্রী কোয়েল সঞ্চারীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে মনেই হল না যে উনি একজন এত সফল অভিনেত্রী। উপরন্তু মনে হল, একজন অতি সাধারণ মানুষ, যিনি কিনা এখনও নিজেকে ‘ স্ট্রাগেলার’ বলতেই ভালবাসেন। আজকেই মুক্তি পেয়েছে পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবি ‘ কে তুমি নন্দিনী’! আর এই সিনেমায় ‘ডোনা’ নামক চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোয়েল। নায়িকার স্কুল জীবনের বন্ধুর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘’ কেমন রেসপন্স পেলেন?’’ অভিনেত্রী হাসতে হাসতে জানালেন, ‘’ এই তো সবে মুক্তি পেল, একটু সবুর করুন! তবে সিনেমার কিছু ফিডব্যাক পেয়েছি, যেগুলো বেশ ভাল।‘’ এঁর আগেও অভিনয় করেছেন, রবি কিনাগী পরিচালিত ছবি ‘জামাই বদল’, হরনাথ চক্রবর্তীর‘ অমর প্রেম’ ছবিতে। এখানেই শেষ নয় তিনি এই মুহূর্তে বাংলা ধারাবাহিক ‘ গ্যাং স্টার গঙ্গা’তে টুনটুনির ভূমিকায় অভিনয় করছেন। তাছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে, ‘ পটল কুমার গান...