সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

''আজকাল তো যে টিকটকে ভিডিও বানাচ্ছে সেও নিজেকে অভিনেতা ভাবছে: আনন্দ চৌধুরী''




কর্পোরেটের কচকচানি থেকে সোজা বাংলা ধারাবাহিকের মেলোড্রামা! লেগ স্ট্যাম্পের গুগলিকে এগিয়ে এসে সোজা মাঠের বাইরে বল পাঠিয়ে হাসতে হাসতে অভিনেতা আনন্দ চৌধুরী বলছেন, ‘’ এই তো জীবন, যাক না যেদিকে যেতে চাক!’’

কী ভাবছেন ? কাকে নিয়ে এত প্রশংসা করছি ? তাহলে একটু ভেঙে বলি। আপনি কি বাংলা ধারাবাহিকের একজন নিয়মিত দর্শক ? তাহলে আপনি নিশ্চয় আনন্দ চৌধুরীকে চিনবেন। এই মুহূর্তে ‘ চুনি-পান্না’ ধারাবাহিকে তিনি অয়নের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শুধু ‘চুনি-পান্না’ কেন ? তাঁর ঝুলিতে রয়েছে আরও জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক। ‘ আমি সিরাজের বেগমে’ তিনি সৌকত-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ‘ ভক্তের ভগবান শ্রী কৃষ্ণ’ ধারাবাহিকে তিনি সানন্দ-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ‘ মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য’ ধারাবাহিকে তিনি রত্নেস্বর-এর চরিত্রে তাঁকে আমরা দেখতে পেয়েছি। এছাড়াও ‘ঝিল ডাঙ্গার কন্যাতে’ তিনি বিদ্যুৎ-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এখানেই শেষ নয়, রোহন সেনের ছবি ‘ এভাবেই গল্প হোক’ এবং সুমন মৈত্রের ছবি ‘ অ’ আগামী বছরের শুরুতেই আসতে চলেছে।  এই দুটি সিনেমায় অন্যতম মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন আনন্দ চৌধুরী।



ছোটথেকেই অভিনয় করার শখ থাকলেও, প্রথম থেকেই কিন্তু তিনি অভিনয় জগতে ঝাঁপ দিতে পারেননি। প্রথমে স্কুলের গ্রুপ থিয়েটার এবং তারপর কিছুদিন অভিজিৎ গুহ এবং সুদেষ্ণা রায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া। যদিও তাঁর বড় হয়ে ওঠা কিন্তু মালদায় তবে কলেজ জীবন কেটেছে কলকাতায়। বছর দুয়েক মতো একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করার পর অবশেষে তিনি ঠিক করে ফেলেন, এবার শুধুমাত্র অভিনয়টাই করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘’ আমার ছোট থেকে ইচ্ছে থাকলেও প্রথমেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারিনি। কিন্তু একটা সময়ের পর এসে মনে হয় যে শুধুমাত্র অভিনয়টাই করব। আমরা ফ্যামিলির একটা বিরাট সাপোর্ট ছিল এর পিছনে। কারণ একটা মোটা মাইনের ফিক্সড চাকরি ছেড়ে অভিনয় করাটা একটু কঠিন ব্যাপার তো!’’

তবে শুধু অভিনয় নয়, একসময় তাঁর ক্রিকেটার হওয়ারও শখ ছিল তবে এখনও সময় পেলে তিনি চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘’ ক্রিকেটে বাংলা ইন্ড্রাস্টির বিরাট কোহলি কে ?’’ তিনি একবাক্যে বললেন, ‘’ যীশু সেনগুপ্ত।’’



আনন্দ চৌধুরী নিজের অভিনয় নিয়ে বড্ড ফোকাসড। তাঁর কাছে ভাল অভিনয় করাটাই আসল কথা। তাঁর মতে , ‘’ সিরিয়াল কিংবা সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ আসলে সবই আমার কাছে কাজ এবং আমার মনে হয় প্রতিটা জায়গায় আমার ভাল অভিনয় করা। তবে আজকাল তো যে টিকটকে ভিডিও বানাচ্ছে সেও আজ অভিনেতা হয়ে গেছে!’’ একটু থেমে তিনি আরও বললেন, ‘’ এখন সবই পাল্টে যাচ্ছে। সিরিয়ালের কনসেপ্টও পাল্টাচ্ছে, সিনিমাও! তাই আমাদের উচিৎ আরও সচেতন হয়ে কাজ করার।‘’

সবশেষে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘’সুযোগ পেলে বাংলার কোন অভিনেত্রীর সঙ্গে ডেটে যেতে চাইবে ?’’ তিনি হাসতে হাসতে বললেন , ‘’ প্রিয়াঙ্কা সরকার!’’ পাল্টা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘’ কেন ?’’ তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ‘’ এটা নয় পরের সাক্ষাৎকারের জন্য তোলা থাক!’’

( সাক্ষাৎকার- আদিত্য ঘোষ
ছবি - সংগৃহীত)       

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"যোগাসনের বিকল্প কিছু নেই" :শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায়

  আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকি। ইদানীং কালে খুব কম বয়সে হৃদরোগের কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে আরও জটিল প্রাণঘাতী রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। প্রতিদিন সময়ের তালে ছুটে চলার তাগিদে আমাদের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর এই কঠিন সময়ে শরীরচর্চার যে সময়টুকু পাওয়া যায়, আমরা অনেকেই জিমে গিয়ে ভারী ভারী লোহালক্কর তুলে থাকি আবার অনেকেই ভোরবেলা হেঁটে থাকেন। প্রাচীন কাল থেকে যোগঅভ্যাস আর প্রাণায়ামের সুখ্যাতি আছে। অনেকেই অভ্যাস করে থাকেন। অনেকের জীবনে   বদলে দিয়েছে যোগঅভ্যাস। তবে জিম না যোগঅভ্যাস এই নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক আছে। নাকি শুধুমাত্র হাঁটলেই মিলবে অনেক রোগ থেকে মুক্তি? তর্ক চলবেই। অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়েই থাকেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে যোগঅভ্যাসের একটা বিরাট প্রচলন শুরু হয়েছে। বিশেষত একটা সময় বয়স্করা প্রতিনিয়ত যোগঅভ্যাস করে থাকলেও ইদানীং সববয়সীদের মধ্যে এই প্রচলন দেখা যাচ্ছে। যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ শিবগঙ্গা টিঙ্কু গঙ্গোপাধ্যায় আটপৌরের মুখোমুখি হয়ে জানালেন যে," যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। প্রাণায়াম এবং যোগব্যায়াম একজন মানুষকে সম্পূর্নরূপে বদলে দিত...

কেয়া পাতার নৌকা

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------   সঞ্জয় ঘোষ কেয়া পাতার নৌকো ভাসে,                 ছোট্টো বোনের রাখির সাথে,                   অপেক্ষার নদী প্রবাহে বয়                   ভাইফোঁটা তার স্মৃতিতে রয়। কেয়া পাতার সেই নৌকো ভাসে,     পদ্মা নদীর প্রবাহের সাথে, কাঁটাতাঁরের সেই সাজানো ফাঁকে,     মাঝির ভাঁটিয়ালি গান বাজে।              বঙ্গভঙ্গ হোক না যতই,            এমন কাঁটাতাঁর তৈরি কতই,             রাখিবন্ধন, ভাইফোঁটাতে                এমন নৌকো ভাসবে ততই। কেয়া পাতার সেই নৌকো থামে       পদ্মা নদীর ওপার গ্রামে,   দাদার হাতে ঐ রাখি সাজে,   শঙ্খের নিনাদ সারা বাংল...

প্রথম লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘’ ধুর বাল! আপনি কি কিছু বলবেন নাকি একবারে ওপরে উঠে বললেন? ‘'

‘’ দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ খালের ধারে বসে থাকা অন্য লোকটি একবারে নিশ্চুপ ! প্রথম লোকটির কথা সে হয়ত শুনতেও পেল না । কিন্তু অন্য লোকটি মুখে একটা বিড়ি ধরিয়ে বেশ হন্তদন্ত হয়ে দেশলাই খুঁজছে । লোকটি আবার বলল , ‘’ ও দাদা , দেশলাই হবে নাকি ?’’ কিন্তু কোনও কথায় লোকটির কানে গেল না ! এবার সেই প্রথম লোকটি দ্বিতীয় লোকটির কাছে এসে বলল , ‘’ আরে দাদা , যা হওয়ার তা হয়ে গেছে , ওসব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই । ‘’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামবে । ব্রিজের নীচে খালটা এমনই ফাঁকাই থাকে , কিন্তু আজ বেশ ভিড় । বিশেষত পুলিশ এবং সাংবাদিকদের । তবে এই দু ’ জন তার থেকে অনেকটা দূরে একটা নিরিবিলি জায়গায় আছে । সামনেই রেললাইন । যদিও এই লাইনে ট্রেন খুব একটা আসা যাওয়া করে না । সারাদিনে হয়ত পাঁচ জোড়া । খালের জল ধীর গতিতে বয়ে চলেছে । তবে যতদূর দেখা যায় , খালের সামনেটা বেশ নোংরা ! কয়েকটা কুকুর মরা পড়ে রয়েছে । বেশ গন্ধও বেরোচ্ছে । তবে ঐ দু ’ জন ব্যক্তি সেই সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ।   প্রথম লোকটি দেশলাই না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় লোকটির পাশে বসে পড়ে বলল, ‘’ ধুর শালা! কী জন্য বেড়িয়েছিলাম আর কী হয়ে ...